হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএনএনের লন্ডনের প্রধান সংবাদদাতা ইভাঙ্কা কাতাসোভা ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলি শাসন গোষ্ঠীর যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই সংঘাত ওয়াশিংটনের জন্য কোনো স্পষ্ট সাফল্য বয়ে আনে নি; বরং এটি আমেরিকার ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক খরচ চাপিয়ে দিয়েছে।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা নিম্নরূপ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে:
১. যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা
ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একটি দ্রুত ও নির্ণায়ক যুদ্ধের, যাতে বিজয় অর্জিত হবে। এমনকি সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘বিভিন্নভাবে বিজয়ী হয়েছেন’। তবে দুই মাস পর সংঘাত বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং আমেরিকাও কোনো স্পষ্ট কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারে নি।
২. আমেরিকার জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ
যুদ্ধের খরচ আমেরিকার নাগরিকদের জন্য বেড়ে গেছে। আগেও মানুষ পেট্রল ও বিমান ভাড়ার জন্য বেশি মূল্য দিচ্ছিল এবং কিছু ব্যবসা জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ পণ্যের দামে যোগ করেছে। মার্চ মাসে আমেরিকার বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৩.৩ শতাংশে পৌঁছেছে; অথচ ফেব্রুয়ারিতে তা ছিল ২.৪ শতাংশ।
৩. কূটনৈতিক দুর্বলতা ও জনপ্রিয়তা হ্রাস
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আমেরিকার বর্তমান অবস্থা মোটেও ভালো নয়। তার মতে, ট্রাম্প কূটনৈতিক দিক থেকে দুর্বল মনে হচ্ছে এবং তিনি এখন বুঝতে পেরেছেন যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করলে আমেরিকার জন্য তা ব্যাপক ক্ষতির কারণ হবে।
৪. অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তার উল্লেখযোগ্য পতন
সিএনএনের জরিপের গড় হিসাব অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের কর্মদক্ষতার অনুমোদনের হার মাত্র ৩৭ শতাংশ।
৫. আমেরিকার বৈশ্বিক সুনাম নষ্ট
এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয়তা পায় নি এবং আমেরিকার সুনাম নষ্ট করেছে। এর বিপরীতে, চীন এই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করে নিজেকে বৈশ্বিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।
৬. জ্বালানি খাতে দুর্বলতা
পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে আমেরিকার অর্থনীতি এখনও তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারে নি।
৭. এশিয়ায় সামরিক অবস্থান দুর্বল
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমেরিকা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার একটি অংশ এশিয়া থেকে সরিয়ে নিয়েছে; এই পদক্ষেপ চীনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করেছে।
আপনার কমেন্ট